সাহাপুর কলোনি, দক্ষিণ কলকাতা – গত রাত্রি পুলিশ শাখা দল কঠোর অনুসন্ধান শেষে স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করেছে। গৃহস্থালি ও ব্যবসায়িক চক্রে তার অপরাধের গোপন নেটওয়ার্কের সন্দেহে আইএসপি সেক্রেটারি গ্যাংসার্ডেন গোপন অপারেশন চালায়। সন্ধ্যা আটটায়, সশস্ত্র দলটি স্বরূপের বাসভবনে প্রবেশ করে, তার বাড়ির দরজা ভেঙে, সঙ্গে সঙ্গে ড্রাগ, অবৈধ মদ ও অপরাধমূলক নথি সংগ্রহ করে।
স্বরূপ বিশ্বাস, যিনি পূর্বে ছোটখাটো ‘বেংগালির হ্যান্ডেল’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তবু সম্প্রতি গাঁথা নেটওয়ার্কে জড়িয়ে রিয়েল এস্টেট জালিয়াতি এবং রিক্লামেড পণ্য বিক্রিতে যুক্ত ছিলেন। সূত্র অনুযায়ী, তিনি স্থানীয় ব্যবসায়িক লোকদের কাছ থেকে রিক্লামেড সামগ্রী কিনে সেগুলোকে মূল পণ্য বলে বিক্রি করতেন, ফলে গ্রাহকদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছিল। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের সময় স্বরূপের হাতে থাকা কয়েকটি সেলফি এবং ফোন রেকর্ডে তার অপরাধমূলক লেনদেনের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত চারটি ধারা অনুযায়ী আইসিপি (অপরাধবিপদ) দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে অবৈধ ড্রাগের পাচার, মদ সরবরাহ, আর্থিক জালিয়াতি এবং অবৈধ রিক্লামেড পণ্যের বিক্রি অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী ও গ্রাহকরা এই গ্রেফতারে স্বস্তি প্রকাশ করেছে, কারণ স্বরূপের নেটওয়ার্কে বহু ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ছিলেন। তদুপরি, এই ঘটনার পর পুলিশ সাহাপুর কলোনিতে অতিরিক্ত পেট্রোলিং বাড়িয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, স্বরূপের মতো মাঝারি স্তরের অপরাধী গোষ্ঠী যখন নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য অবৈধ পথে অগ্রসর হয়, তখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপ অপরিহার্য হয়ে ওঠে। পুলিশ কর্তৃক গৃহীত হানা কেবল স্বরূপেরই নয়, তার সমন্বিত নেটওয়ার্কের জন্যও সতর্ক সংকেত। শেষমেশ, পুলিশের এই কঠোর ব্যবস্থা শহরের সুশাসন ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা যায়।
