কলকাতার রাজনীতির অন্দরে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেলেন প্রভাবশালী কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। অভিযোগ, ব্যাংক থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা তুলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি তড়িঘড়ি ওড়িশার দিকে রওনা দিয়েছেন। দীর্ঘক্ষণ তাঁর কোনো খোঁজ না পেয়ে এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়। এই ঘটনায় এখন শহরের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে প্রবল গুঞ্জন।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই আনন্দপুর থানার পক্ষ থেকে সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে ফেরার নোটিস জারি করা হয়েছে। তাঁর সম্ভাব্য গতিপথ খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। এরই মধ্যে এক রোমহর্ষক অভিযানে বেলদার ওড়িশা সীমানার কাছ থেকে পুলিশ সুশান্তর গাড়ির চালককে আটক করেছে। চালকের জিজ্ঞাসাবাদ থেকেই জানা যাচ্ছে, সুশান্ত ঘোষ পরিকল্পিতভাবেই এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে রাজ্য ছেড়ে পালিয়েছেন।
তদন্তকারী আধিকারিকদের অনুমান, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথা থেকে এল এবং কেন হঠাৎ এভাবে পালিয়ে যেতে হলো, তার পেছনে বড় কোনো আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির যোগসূত্র থাকতে পারে। সাধারণত দাপুটে জনপ্রতিনিধিদের এমন আচরণের পেছনে গভীর রহস্য থাকে। পুলিশ এখন চেষ্টা করছে চালকের বয়ানের ভিত্তিতে সুশান্ত ঘোষ এবং তাঁর পরিবারের বর্তমান অবস্থান শনাক্ত করতে। ওড়িশার বিভিন্ন জেলা পুলিশকেও এই বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যেও ব্যাপক উত্তেজনা। একজন প্রভাবশালী কাউন্সিলরের এভাবে নিখোঁজ হওয়া এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে পালানো প্রশাসনের ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছেন অনেকে। পুলিশ এখন জানতে চাইছে, এই ৩ কোটি টাকার উৎস কী এবং এই ঘটনার পেছনে আর কার কার হাত রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই রহস্যের জট খুলবে বলে আশা করছে গোয়েন্দা বিভাগ।
সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনাটি কেবল একজন কাউন্সিলরের নিখোঁজ হওয়া নয়, বরং এর পেছনে বড়সড় কোনো আর্থিক কেলেঙ্কারির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আপাতত পুলিশের মূল লক্ষ্য সুশান্ত ঘোষকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা এবং উদ্ধার করা সেই বিপুল পরিমাণ অর্থ। এই ঘটনার রেশ ধরে শহরের অন্যান্য প্রশাসনিক স্তরেও তল্লাশি শুরু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
