তৃণমূলের অন্দরেই এবার দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি। বিশেষ করে জাভেদ আহমেদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির ইঙ্গিত দিয়ে তিনি দাবি করলেন, প্রভাবশালী কিছু মানুষ এই দুর্নীতির জালে জড়িয়েছেন। রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে চর্চিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কল্যাণের সেই মন্তব্য, যেখানে তিনি বিদ্রুপের সুরে বললেন, দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্তরা যেন এখন ‘ওয়াশিং মেশিনে পরিষ্কার হতে গিয়েছেন’। অর্থাৎ, আইনি জটিলতা বা তদন্তের হাত থেকে বাঁচতে কৌশলে নিজেকে সাদা করার চেষ্টা চলছে।
ঘটনার সূত্রপাত যখন কিছু সংক্ষুব্ধ মানুষ কল্যাণের কাছে এসে অভিযোগ জানান। সাংসদের দাবি, বেশ কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে মামলা করার কথা বলেন। এই বিষয়টি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং কুণালഘോഷের কানেও পৌঁছায়। অভিযোগ উঠেছে, এই পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বা মিটিয়ে নিতে জাভেদ আহমেদ প্রশাসনিক বৈঠকের মাধ্যমে সবকিছু ‘ঠিক’ করার চেষ্টা করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের ভেতরেই এই ধরণের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসা শাসকদলের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
কলকাতার রাজনৈতিক অন্দরে এখন প্রশ্ন উঠছে, দলের ভেতরেই কি শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, নাকি এটি ব্যক্তিগত সংঘাতের বহিঃপ্রকাশ? কল্যাণ ব্যানার্জির মতো একজন প্রভাবশালী নেতার মুখে এই ধরণের মন্তব্য প্রমাণ করে যে, তৃণমূলের অন্দরে এখন শুদ্ধিকরণের দাবি জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে যখন প্রশাসনিক স্তরে প্রভাব খাটিয়ে দুর্নীতির প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়, তখন সাধারণ কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
এই পুরো ঘটনায় কুণালഘോഷের ভূমিকা নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা চলছে, তবে প্রকাশ্য মঞ্চে এই ধরণের বিস্ফোরক মন্তব্য যে বড়সড় রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি করবে, তা স্পষ্ট। জাভেদ আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগগুলো যদি সত্যি হয়, তবে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল বা আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনাটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ফাটল এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে দলের নিজস্ব লড়াইয়ের এক জটিল ছবি ফুটিয়ে তুলেছে। একদিকে যখন রাজ্য সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের কথা বলছে, ঠিক তখনই দলেরই এক নেতার মুখে এই ধরণের অভিযোগ বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করল। এখন দেখার, এই ‘ওয়াশিং মেশিন’ বিতর্ক শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
