২০ বছরেও বিজেপিকে সরানো যাবে না, ইন্ডিয়া জোটের বৈঠককে ‘হাস্যকর’ বলে কটাক্ষ শমীক ভট্টাচার্যের

রাজনীতি
সময় লাগবে পড়তে: < 1 মিনিট

রাজ্যের রাজনৈতিক আঙিনায় ফের একবার আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ইন্ডিয়া জোটের সাম্প্রতিক বৈঠককে কার্যত ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়ে তিনি দাবি করলেন, আগামী ২০ বছরেও দেশের শাসনক্ষমতা থেকে বিজেপিকে সরানো সম্ভব নয়। বিরোধী দলগুলির এই ঐক্যকে তিনি একটি সাময়িক এবং অসার প্রচেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর মতে, আদর্শগত সংঘাত থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ক্ষমতার লোভে একজোট হওয়া দলগুলির ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

শমীক ভট্টাচার্যের প্রশ্ন, যারা এতদিন একে অপরের ঘোর বিরোধী ছিলেন, তারা হঠাৎ করে কীভাবে এক মঞ্চে এসে দেশের শাসনভার সামলাবেন? তাঁর দাবি, মোদী সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং উন্নয়নমূলক কাজের সামনে এই জোটের কোনো বিশেষ গুরুত্ব নেই। সাধারণ মানুষ এখন উন্নয়নের কথা ভাবছেন, আর বিরোধী দলগুলি কেবল নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই লড়ছেন। এই লড়াইয়ে বিজেপির জয় নিশ্চিত বলে তিনি মনে করেন।

আরও পড়ুন:  নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি ছিল, অভিযোগ সপা নেতা কিরণময় নন্দের

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে বিরোধী শিবির যখন ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে, ঠিক সেই সময়েই বিজেপির এই আক্রমণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্য আসলে ভোটারদের মনে এই বার্তাই পৌঁছে দিতে চায় যে, ইন্ডিয়া জোট একটি দুর্বল জোট এবং তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই। রাজ্য বিজেপির এই রণকৌশল মূলত বিরোধীদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করার এবং নিজেদের আত্মবিশ্বাস জাহির করার একটি প্রচেষ্টা।

পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এখানেও তৃণমূলের সাথে লড়াইয়ে বিজেপি প্রস্তুত। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পগুলি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমেই তারা আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে। বিরোধী জোটের বৈঠক যে কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়, সেই দাবিই জোরালো করে শমীক।

আরও পড়ুন:  অবৈধ মাদ্রাসা নিয়ে বিজেপির বিস্ফোরক বক্তব্য

পরিশেষে, শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্য প্রমাণ করে যে, আসন্ন লড়াইয়ে বিজেপি কোনোভাবেই পিছু হটতে রাজি নয়। একদিকে বিরোধীদের জোটবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা, অন্যদিকে বিজেপির এই আত্মবিশ্বাসী অবস্থান— এই দুইয়ের সংঘাতই আগামী দিনে রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে। এখন দেখার বিষয়, বিজেপির এই চ্যালেঞ্জের মুখে ইন্ডিয়া জোট কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *