ঢাকা জেলার নওয়াবগঞ্জ উপজেলায় একটি ধানক্ষেতের মধ্যে আট দিন পর হিন্দু কাঠমিস্ত্রির মরদেহ পাওয়া যায়, যা এলাকার মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। মৃতদেহটি পুকুরের পাশে অবস্থিত একটি ছোট দুনিয়ায় পাওয়া যায়, যেখানে স্থানীয়রা অভিযোগ করে যে নিধনের ভয়াবহতা এখনো থামেনি। ঘটনাটি হঠাৎ প্রকাশে আসার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক গোষ্ঠী চেতনা জাগে, এবং তারা নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে তৎক্ষণাত তদন্তের দাবি তুলে ধরে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, মৃত ব্যক্তি নামের তালিকায় কোনো নাম না থাকায় তার পরিচয় নিশ্চিত করা কঠিন হয়েছে, তবে প্রতিবেশীরা জানান যে তিনি নওয়াবগঞ্জের পুরোনো গাঁথা গাছের কাঠে কাজ করতেন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন। তার পরিবারও বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে বাস করে, তবে মৃত্যুর পরপরই তারা কোনও সূত্র দিতে পারছে না, ফলে পরিবার ও সম্প্রদায়ের মধ্যে অস্থিরতা বাড়ে।
স্থানীয় পুলিশ অফিসার বলছেন, দেহটি পাওয়ার পরই কেস ফাইল করা হয়েছে এবং তদন্তে ফোরেন্সিক দলকে পাঠানো হয়েছে। তারা বলছে যে দেহে কোনো চিহ্ন না পাওয়া পর্যন্ত নিধনের পেছনের কারণ বা দায়ী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা এখনও সম্ভব হয়নি। তবে তারা আশ্বস্ত করেছেন যে, সর্বোচ্চ দ্রুততা দিয়ে তদন্ত সম্পন্ন করে অপরাধীকে আইনের কাঠামোতে আনা হবে।
এদিকে নওয়াবগঞ্জের জামাত নেতারা এই ঘটনার প্রতি নিন্দা প্রকাশ করে এবং “হিন্দু জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখনই আমাদের অগ্রাধিকার” বলে আহ্বান জানিয়ে দিচ্ছেন। তারা দাবি করছেন যে, ধর্মীয় সহনশীলতা বজায় রাখতে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন, অন্যথায় গাঁথা গাছের কাঠে কাজ করা শ্রমিকদের মত সাধারণ মানুষও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
উল্লেখযোগ্য যে, এই ঘটনা বাংলাদেশের হিন্দু সমাজে চলমান নিধন ও হিংসার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের সহিংসতা সামাজিক সংহতি নষ্ট করে এবং দেশের আন্তর্জাতিক সুনাম ক্ষুন্ন করে। তাই সরকারকে দ্রুত নীতি তৈরি করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুঃখজনক ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।
