উত্তরপ্রদেশে অবৈধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এবার আরও কঠোর পদক্ষেপ নিল যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন। সম্প্রতি গাজিয়াবাদ জেলায় এক বড়সড় অভিযানে অনুমোদনহীন একটি মাদ্রাসাকে সিল করে দেওয়া হয়েছে। সাতসকাল যখন শহরের মানুষ ঘুম থেকে উঠছিলেন, ঠিক তখনই প্রশাসনের আধিকারিকদের দল ওই মাদ্রাসায় অতর্কিত হানা দেয়। নিয়ম বহির্ভূতভাবে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটির সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই মাদ্রাসাটির প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ছিল না এবং শিক্ষা দপ্তরের নির্ধারিত নিয়মগুলিও যথাযথভাবে মানা হচ্ছিল না। দীর্ঘদিনের অভিযোগের ভিত্তিতে এবং গোপন সূত্রে খবর পেয়েই এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি সঠিক নথিপত্র ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে পরিচালিত হয়ে আসছিল, যা আইনের পরিপন্থী।
উত্তরপ্রদেশে গত কয়েক বছর ধরেই অবৈধ মাদ্রাসা এবং অসংগত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে যোগী সরকার। প্রশাসনের দাবি, শিক্ষার নামে কোনোভাবেই নিয়ম বহির্ভূত কাজ চলতে দেওয়া হবে না। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড এবং সরকারি স্বীকৃতি থাকা বাধ্যতামূলক। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজ্য সরকার স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে যে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনার পর ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অনেক অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দা প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও, কেউ কেউ একে রাজনৈতিকভাবে দেখছেন। তবে সরকারি আধিকারিকদের দাবি, এটি সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং শিক্ষার গুণমান বজায় রাখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, উত্তরপ্রদেশের এই অভিযান কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি বড় প্রচেষ্টা। নিয়ম মেনে চলা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি ইতিবাচক হলেও, অবৈধভাবে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা। আগামী দিনে রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও এই ধরণের অভিযান আরও জোরদার হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
