আয়ুষ্মান ভারত নিয়ে বড়সড় মোড়? দিল্লি রওনা শুভেন্দু অধিকারীর, কি পরিকল্পনা বিজেপির?

রাজনীতি
সময় লাগবে পড়তে: 2 মিনিট

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন আর কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কি পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’? এই প্রশ্নটিই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। এই জটিল সমীকরণের সমাধান খুঁজতে এবং চূড়ান্ত আলোচনার জন্য দিল্লি রওনা দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল সরকার কেন্দ্রের এই প্রকল্প গ্রহণ করতে অস্বীকার করে আসছে। পরিবর্তে রাজ্য সরকার নিজস্ব ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্প চালু রেখেছে। তবে কেন্দ্র ও রাজ্যের এই ইগোর লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন রাজ্যের সাধারণ মানুষ, যারা আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। শুভেন্দু অধিকারীর এই দিল্লি সফর ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিজেপি হয়তো কোনো বিশেষ ফর্মুলা বা সমঝোতার কথা ভাবছে, যার মাধ্যমে রাজ্যের মানুষকে এই বিমার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন:  ইন্ডি জোটের বৈঠকে বিধ্বস্ত মমতা! ৭ মিনিটে মুখে মাত্র দুটি শব্দ, সবার আগে ছাড়লেন মঞ্চ

সূত্রের খবর, দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হতে পারে। সেখানে আলোচনা হতে পারে কীভাবে রাজ্য সরকারকে রাজি করানো যায় অথবা বিকল্প কোনো পথে এই প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। শুভেন্দু অধিকারী বরাবরই দাবি করে এসেছেন যে, কেন্দ্রের এই প্রকল্পের সুবিধা রাজ্যের মানুষ পাওয়ার যোগ্য। তাঁর এই তৎপরতা এটাই প্রমাণ করে যে, আগামী দিনে স্বাস্থ্য পরিষেবা ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় চাল চালতে চাইছে গেরুয়া শিবির।

যদি এই আলোচনা সফল হয় এবং আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প বাংলায় কার্যকর হয়, তবে তা কেবল স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতিই করবে না, বরং রাজনৈতিকভাবেও বিজেপিকে এক বড়সড় নৈতিক জয় এনে দেবে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে, কারণ স্বাস্থ্য সাথী ও আয়ুষ্মান ভারত—এই দুই প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয় করা বা কোনো একটির প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করা প্রশাসনিকভাবে বেশ জটিল হবে।

আরও পড়ুন:  পুজো‑মাসে ডিউটি‑ডিউটি করে রিওয়ার্ডের মিষ্টি—মুখ্যমন্ত্রীর বড় ঘোষণা

সামগ্রিকভাবে, শুভেন্দু অধিকারীর এই দিল্লি সফর কেবল একটি সাধারণ সফর নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক রণকৌশলের অংশ। এখন দেখার বিষয়, দিল্লির বৈঠক থেকে কী বার্তা আসে এবং সেই বার্তা পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় কতটা প্রভাব ফেলে। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ যদি কার্যকর হয়, তবে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষ উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পাবেন, যা দীর্ঘদিনের এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *