**
বিক্রম, যিনি গত বছর এক অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার হন, Ei Samay‑কে জানালেন যে জেলখানার শীতল মেঝেতে শুতে শুতে তিনি কনকনে ঠান্ডা অনুভব করছিলেন। শীতের মাসে তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রির নিচে নেমে যাওয়ায়, কোনো হিটিং কিংবা অতিরিক্ত কম্বল না থাকায় জেলখানার শয্যা ছিল এক ধরনের “বাঁধা শীতলতা”। তিনি বলেন, “মেঝে ততক্ষণই শীতল থাকে যতক্ষণ না কেউ তার উপর শুয়ে না যায়, আর আমরা শুয়ে থাকতেই শীতের দানা গিলে ফেলি।”
মেঝেতে শুতে শুতে বিক্রমের খাবারও প্রায় এক সপ্তাহে একবারই পৌঁছাত। রোজগার না থাকায়, জেলখানার রান্না করা ভাত আর দালই তার একমাত্র আহার হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, আর কখনও কখনও রুটি না পেলে পেটের গলা কাঁপা শোনা যেত। তবু তিনি বললেন, “সাথী বন্দীরা, একে অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করে, খাবার‑পানীয়ের ক্ষুদ্রতম ভাগও ভাগ করে নিতাম।”
বিক্রমের মতে, জেলজীবনের সবচেয়ে কঠিন দিক ছিল মানসিক চাপ। দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতা, অপরাধের সিলুয়েট ও ভবিষ্যতের অস্থিরতা তার মনের ওপর গাঢ় ছাপ ফেলেছিল। তবে, তিনি কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন জেলখানার শাসক ও অন্যান্য বন্দীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে, যারা একে অপরের মানসিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করত।
বিক্রমের অভিজ্ঞতা শহরের জেলখানার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নজরে এনে দিয়েছে, যারা স্বীকার করেছেন যে অতিরিক্ত ভিড়, মৌলিক স্যানিটেশন ও শীতলতা নিয়ন্ত্রণে ত্রুটি রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে এই বিষয়টি তুলে ধরেছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা চায়, যাতে বন্দীদের মৌলিক অধিকার রক্ষিত হয়। বিক্রমের কণ্ঠস্বর এই প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের এক জোরদার আহ্বান হিসেবে কাজ করবে, আশা করা যায় যে ভবিষ্যতে জেলখানার পরিবেশে উন্নতি হবে।
**EXCERPT:** বিক্রমের বর্ণনা থেকে স্পষ্ট হয়, জেলখানার শীতল মেঝেতে শোয়ানো এবং সীমিত খাবার তার ৭০ দিন জেলজীবনের প্রধান কষ্ট। তার গল্প জেলখানার অব্যবস্থাপনা ও মানবিক দায়িত্বের প্রতি প্রশ্ন তুলবে, যা দ্রুত সংস্কারের দাবি করে।
**IMAGE_KEYWORDS:** Kolkata jail, cold floor, prisoner interview
**TAGS:** jail conditions, human rights, Kolkata
**CATEGORY:** crime
