গ্রেপ্তারির পরে দড়ি ঘোরানো—হাই কোর্টের তলব রাজ্যের কাছে রিপোর্টের দাবি

স্বাস্থ্য
সময় লাগবে পড়তে: < 1 মিনিট

হাই কোর্টের আজ অর্ডার রাজ্যের শাসককে চমকিয়ে দিল, গ্রেপ্তারির পর অভিযুক্তের কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানোর প্রথা কেন চালু রয়েছে তা জানার দাবি জানিয়ে। আদালত রায়ে স্পষ্ট করে বলেছে, এমন পদ্ধতি মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং আইনের শাসনকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। আদালতের নির্দেশে, রাজ্য সরকারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে, যাতে দড়ি ঘোরানোর প্রণালী, এর উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিচয় স্পষ্ট করা হয়।

প্রতিবেদন চাওয়ার পেছনে রয়েছে মানবাধিকার সংস্থার ধারাবাহিক অভিযোগ, যা জানায় যে অভিযুক্তদের শারীরিক ও মানসিক দুর্ভোগ বাড়াতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। সংস্থাগুলি দাবি করে, দড়ি ঘোরানো কেবল শাস্তি নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ভঙ্গের একটি ছদ্ম-প্রক্রিয়া, যা গোপনীয়তা ভাঙতে ও অপরাধীকে ভয় দেখাতে ব্যবহৃত হয়।

আরও পড়ুন:  ভূমিকম্পে কাঁপল শিলিগুড়ি

পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই পদ্ধতি কোনো আনুষ্ঠানিক প্রোটোকল নয় এবং এখনই তা বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, কিছু গ্রেপ্তারে অপ্রয়োজনীয় শারীরিক চাপের অভিযোগ উঠতে পারে, যা দ্রুত তদন্তের বিষয় হবে।

রাজ্য সরকার এখন হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে, পুলিশ শাসনব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করবে এবং দড়ি ঘোরানোর মতো অনধিকারিক পদ্ধতি বন্ধ করতে পদক্ষেপ নেবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি জেলা থানায় দড়ি ব্যবহার বন্ধের আদেশ জারি করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপর শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কঠোর শাস্তি আরোপের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

উপসংহারে, হাই কোর্টের তীব্র তলবটি কেবল একটি নোটিশ নয়, বরং মানবাধিকার রক্ষার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। রাজ্যের দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রতিবেদন জমা দেওয়া এবং সংশোধনী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে, গ্রেপ্তারির পর অভিযুক্তের মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব পালিত হবে বলে আশা জাগ্রত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *