উত্তরাখণ্ডের গৌরী‑ডি হিলস্ রিজার্ভে দুইজন তরুণীর ট্রেক‑যাত্রা শেষ হওয়ার মুহূর্তেই এক কিশোরীর অদৃশ্যতা সংবাদ প্রতিবেদনকে শক‑সীমায় নিয়ে এসেছে। ২২‑বছরের মধুরা দাশের সঙ্গে সঙ্গী দুটি বন্ধুরা, অরুণা (২০) ও সুমন (১৯), রাতের বেলা শিবলিং ট্র্যাকিং সিস্টেমে তার শেষ সিগন্যাল পায়, এরপর থেকে তার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। স্থানীয় পুলিশ তৎক্ষণাৎ অনুসন্ধান শুরু করে, তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সন্দেহজনক তথ্য পেয়ে দুই বন্ধুকে গৃহীত জিজ্ঞাসাবাদে নিয়ে আসে।
অরুণা ও সুমনকে প্রশ্নের সময়ে বলা হয় যে তারা মধুরার সঙ্গে কোনো বিচ্যুতি, বিচ্ছিন্নতা বা তর্কের সূত্রে না গিয়ে হাইকারদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তবে, তারা স্বীকার করে যে ট্রেক‑রুটের শেষের দিকে হাওয়া বদলে গিয়েছিল এবং দলটি আলাদা হয়ে গিয়েছিল। তাদের বর্ণনা অনুসারে, মধুরা একা রঙিন গাছের পাশে থেমে রইল, তারপর হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায়।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়, রিজার্ভের বায়ু দূষণ ও ভূগোলিক বৈশিষ্ট্য ট্রেকারদের দিকভ্রান্ত করে। এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে অজানা গোষ্ঠীর উপস্থিতি সন্দেহ বাড়িয়ে তুলেছে। তদন্তকর্তা বলছেন, জিপিএস‑ডেটা, স্যাটেলাইট‑ইমেজ ও স্থানীয় গাইডের সাক্ষ্য একত্রে বিশ্লেষণ করে মধুরার অবস্থান নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবারকে আশ্বস্ত করতে, পুলিশ ইতিমধ্যে ড্রোন‑সার্ভে, কুকুর‑শিকারি দল ও স্বেচ্ছাসেবী হাইকিং গোষ্ঠীর সহযোগিতা নিয়েছে। মধুরার পরিবার উদ্বেগে কাঁপছে, তবে তারা বিশ্বাস করে যে দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপে শেষ পর্যন্ত সত্য উন্মোচিত হবে।
উত্তরাখণ্ডের এই অদ্ভুত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ট্রেক‑সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে। শেষ পর্যন্ত, মধুরার অবস্থা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কাজ এবং জনসাধারণের সহযোগিতা ছাড়া কোনো সমাধান সম্ভব নয়।
