দীর্ঘদিনের জল্পনা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর শেষমেশ কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ এখন পশ্চিমবঙ্গের তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে, এ খবর শুনে শহরের রাজনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষ উভয়ই উত্তেজিত। এই পদক্ষেপের মূল কারণ হচ্ছে রাজ্যের স্বাস্থ্যখাতে তহবিলের ঘাটতি পূরণে কেন্দ্রীয় সহায়তা চাওয়া, যা রোগীর আর্থিক বোঝা কমাবে বলে প্রত্যাশা।
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্বাস্থ্য মন্ত্রী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী, যিনি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, আলোচনা করেন কীভাবে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের কাঠামোকে রাজ্যের প্রয়োজনের সাথে মানিয়ে নেওয়া যায়। বৈঠকে উভয় পক্ষই প্রস্তাবিত স্কিমের কভারেজ, বীমা প্রিমিয়াম ও সেবা মানদণ্ডের ওপর বিস্তারিত মতবিনিময় করেন।
শুভেন্দুর রওনা দিল্লি বিমানবন্দর থেকে হওয়ায় পয়লা দিকেই এই বৈঠকের ফলাফলকে বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তিনি কংগ্রেস নেতা ও স্বাস্থ্য কর্মীদের সঙ্গে ফোনে মিটিং করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শেয়ার করার প্রতিশ্রুতি দেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘আয়ুষ্মান ভারত’ যুক্ত হলে পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীন ও নগর স্বাস্থ্যসেবা উভয়ই সমন্বিতভাবে উন্নত হবে, ফলে দরিদ্র পরিবারের রোগীর আর্থিক ক্ষতি কমবে। এছাড়া, কেন্দ্রীয় তহবিলের প্রবাহ রাজ্যের চিকিৎসা অবকাঠামো শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
উপসংহারে বলা যায়, শুভেন্দু অধিকারীর দিল্লি সফর ও বৈঠকটি শুধু এক রাজনৈতিক মেলামেশা নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যসেবার রূপান্তরের সূচনা হতে পারে। যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু সুষ্ঠুভাবে চলে, তবে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের অধীনে সবারই স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য হবে।
