খড়্গপুরের এক রাত্রিকালীন অভিযান শেষে মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরা গৃহবন্দি থেকে মুক্তি পেয়ে পুলিশ হাতে নেয়া হয়। পুলিশের সূত্রে জানানো হয়েছে, হাজারার বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত অপরাধের অভিযোগে ফাঁসির আদেশ জারি করা হয়েছে এবং তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারিতে হেজারা আত্মসমর্পণ করেননি, বরং শাসক দলীয় গোপনীয়তা ফাঁসের অভিযোগে তাকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন।
হাজারা, যিনি ২০১১ থেকে ২০২1 পর্যন্ত মেদিনীপুরের বিধায়ক হিসেবে কাজ করেছেন, ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে উন্নয়ন প্রকল্পে অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের তথ্য প্রকাশের পর তদন্তে জড়িয়ে গেছেন। দায়িত্বশীল সিএডি (সিএনডি) অফিসারদের মতে, হাজারার জড়িত সম্পত্তির রেকর্ডে অস্বাভাবিক নগদ প্রবাহের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে, যা তাকে অপরাধমূলক দায়ে অভিযুক্ত করার মূল ভিত্তি।
পুলিশের মতে, গ্রেফতারকৃত হাজারা এখন রেডি কেসের অধীনে আদালতে হাজির হবেন এবং তার বিরুদ্ধে আর্থিক জালিয়াতি, সম্পত্তি লুকানো এবং দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হবে। রেকর্ডে দেখা যাচ্ছে, তিনি পূর্বে সিএসএফ (সিএসএফ) দপ্তরে গোপনীয় তথ্য ফাঁসের অভিযোগে তদন্তে ছিলেন, তবে তখন কোন দোষী সাব্যস্ত হয়নি।
রাজনীতির বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই গ্রেপ্তারি ঘটনার ফলে তৃণমূল পার্টির অভ্যন্তরে শাসন কাঠামোর উপর চাপ বাড়বে এবং নির্বাচনী সমর্থকদের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে। তবে হাজারার সমর্থকগণ দাবি করছে, এই দায়িত্বহীন গ্রেফতার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্দোষের দাবিতে আছেন।
উপসংহারে বলা যায়, খড়্গপুরে হাজারার গ্রেপ্তার রাজনৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকে বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আদালতে তার রায় নির্ভর করে পরবর্তী রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতি নির্ধারিত হবে এবং তৃণমূল পার্টির অভ্যন্তরে ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনা বাড়বে।
