তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় শিবিরে কি বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত? রাজনৈতিক মহলে এখন এই প্রশ্নই সবচেয়ে বেশি ঘুরপাক খাচ্ছে। সূত্রের খবর, দলের দুই প্রভাবশালী রাজ্যসভা সাংসদ খুব শীঘ্রই তাঁদের পদত্যাগ করতে পারেন। যদি এই জল্পনা সত্যি হয়, তবে তা শাসক দলের জন্য এক বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে, বিশেষ করে যখন আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণে প্রতিটি আসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের অন্দরে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ এবং নেতৃত্বের সঙ্গে মতপার্থক্যই এই পরিস্থিতির মূল কারণ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত বা নির্দিষ্ট কিছু অভ্যন্তরীণ বিষয়ে असন্তোষ জমেছে কিছু সদস্যের মনে। এই পরিস্থিতিতে দুই সাংসদের ইস্তফার সম্ভাবনা সামনে আসতেই নবান্ন থেকে আলিপুর পর্যন্ত শুরু হয়েছে প্রবল উত্তেজনা। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
সাধারণত রাজ্যসভার সাংসদদের পদত্যাগ খুব একটা দেখা যায় না, কারণ এটি একটি পরোক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়া। তবে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা স্পষ্ট করে দেবে যে, দলের ভেতরে ফাটল কতটা গভীর। বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই এই সুযোগ নিতে প্রস্তুত। বিজেপির তরফে দাবি করা হচ্ছে, তৃণমূলের অন্দরে অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং এই ভাঙন আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।
তবে তৃণমূলের অন্দরে এক অংশের বিশ্বাস, এটি কেবলই একটি রাজনৈতিক গুঞ্জন এবং দলের সংহতি বজায় থাকবে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, এই জল্পনা শাসক দলের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যখন কেন্দ্রীয় স্তরে দলের লড়াই আরও তীব্র হচ্ছে, তখন নিজেদের ঘরের এই অস্থিরতা অস্বস্তি বাড়াবেই।
সব মিলিয়ে, এখন নজর সবদিকে। ওই দুই সাংসদ শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেন এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই পরিস্থিতি সামলাতে কী পদক্ষেপ নেন, তার ওপরই নির্ভর করছে তৃণমূলের আগামী দিনের কৌশল। যদি ইস্তফা কার্যকর হয়, তবে তা কেবল সাংসদ পদের শূন্যতা নয়, বরং দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির এক নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।
