রাজ্য সরকার আজ শিলিগুড়িতে মাদ্রাসা সমীক্ষার ঘোষণা দিল, যা পুরো পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে অবৈধ মাদ্রাসা শনাক্ত করে বন্ধ করার লক্ষ্যে চালু হবে। সমীক্ষা দলগুলোকে শাসনকর্তা কর্তৃক বিশেষ অনুমোদন দেয়া হয়েছে, আর তারা একে একে মাদ্রাসার রেজিস্ট্রেশন, শিক্ষক তালিকা ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা যাচাই করবে। এই পদক্ষেপকে “অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী” বলে রাজ্য সরকারের মুখপাত্র অগ্নিমিত্রা পল স্বাগত জানিয়ে বলেন, কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাদ্রাসা ভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর রিক্রুটমেন্টে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিজেপি নেতারা এই সমীক্ষাকে “বিস্ফোরক অগ্নিমিত্রা” হিসেবে বর্ণনা করে, কারণ তারা দাবি করছেন যে অবৈধ মাদ্রাসায় শিশুদের জঙ্গি প্রশিক্ষণ বন্ধ হয়ে যাবে। তারা অতীতের কিছু মামলার উদাহরণ দিয়ে দেখিয়ে দিলেন, যেখানে মাদ্রাসা থেকে তরুণরা সশস্ত্র গোষ্ঠীতে যুক্ত হয়ে হিংসাত্মক কার্যক্রমে লিপ্ত হয়েছে। এখন সরকারী সমীক্ষা ও কঠোর শাস্তি দিয়ে এই ধারা সম্পূর্ণভাবে নিলম্বিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলেন, মাদ্রাসা সমীক্ষা কেবল আইনি কাঠামো নয়, সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর দিকেও গুরুত্বপূর্ণ। গৃহস্থালির লোকজনকে সঠিক তথ্য দিয়ে মাদ্রাসা নির্বাচনে সচেতন করা হলে অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলো স্বয়ং নিরুৎসাহিত হবে। তদুপরি, সরকারকে যদি সত্যিই শিশুদের জঙ্গি‑প্রশিক্ষণ রোধ করতে হয়, তবে শিক্ষার গুণগত মান এবং বিকল্প শৈশব বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
উপসংহারে, শিলিগুড়িতে শুরু হওয়া এই সমীক্ষা যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে অবৈধ মাদ্রাসার দখল দমন ও তরুণদের সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ গড়ার পথে এক বড় পদক্ষেপ হবে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে সরকারের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর। একবার এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে, পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আরও নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশে কাজ করবে।
